মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সামনে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আসা এক পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে ‘লুবনা ফার্মেসি’ নামে একটি ওষুধ দোকানের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনতে গেলে লুবনা ফার্মেসির এক কর্মচারী জোর করে রোগীকে অন্য কোম্পানির ওষুধ ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই ওষুধ নার্সকে দেখালে তিনি তা গ্রহণ না করে ফেরত দিতে বলেন। রোগীর স্বজনরা ওষুধটি ফেরত দিতে গিয়ে কেন তাদের হয়রানি করা হলো—এমন প্রশ্ন তুলতেই ফার্মেসির কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা অসুস্থ শিশুটির বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বেধড়ক মারপিট করেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় অভিযুক্ত ফার্মেসি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, লুবনা ফার্মেসির লোকজন এর আগেও একাধিকবার রোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও মারপিট করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলেই তারা সাধারণ রোগীদের ওপর বারবার এমন হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এবং হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গার সামনে সাধারণ মানুষের ওপর এমন আচরণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, শহরের মানুষের সাথেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসহায় মানুষদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হয়।

এ ঘটনার সত্যতা জানতে লুবনা ফার্মেসির মালিক কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের পরিবর্তে তিনি বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানান। অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ফার্মেসি মালিক বা কর্মচারী সাধারণ রোগীদের ওপর এমন নিগ্রহ করার সাহস না পায়।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত