গোপালগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার দীর্ঘ ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এ ঘটনায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডিত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (৫ জন): বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (৪ জন): মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলিমুজ্জামান বিটু ও প্রিন্স খাঁ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত (১১ জন): ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আক্রাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, শিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুর রশিদ মোল্লা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী সাইদুর রহমান বাসুর ওপর হামলা চালায়। তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরদিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই রায় প্রদান করা হলো।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ২৩ জন আসামির মধ্যে একজন বিচার চলাকালে মারা গেছেন এবং বাকি দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত