ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জ-৬: তিনবারের প্রার্থী শরিফুল আলমের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ও বিএনপির ভরসা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2025 ইং
কিশোরগঞ্জ-৬: তিনবারের প্রার্থী শরিফুল আলমের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ও বিএনপির ভরসা ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এক আলোচিত নাম শরিফুল আলম। একাধারে তিনি যেমন দলের জেলা ইউনিটের টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচিত সভাপতি, তেমনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত তার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং একাধিকবার কারাবরণের মতো ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন তার।


আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসন থেকে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।


শরিফুল আলমের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সাম্প্রতিক অর্জন হলো দীর্ঘ ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে নিরঙ্কুশ বিজয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১,৫২২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যা দলে তার শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি প্রমাণ করে। এর আগে ২০১৬ সালেও তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান।


শরিফুল আলমের বাড়ি কুলিয়ারচরে এবং তিনি প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের বিএনপি রাজনীতিতে মূল সংগঠক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন।


শরিফুল আলম বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে মোট তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

২০০৮ (নবম সংসদ নির্বাচন): তিনি প্রথমবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) জিল্লুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। শরিফুল আলম পেয়েছিলেন ৮৯,৮৩৭ ভোট (৩৮.৩%)।

২০০৯ (উপ-নির্বাচন): জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হলে যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতেও বিএনপি শরিফুল আলমকেই মনোনয়ন দেয়। এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাজমুল হাসান পাপনের কাছে পরাজিত হন। তিনি পান ৬৮,৩২৭ ভোট (৩৯.২%)।

২০১৮ (একাদশ সংসদ নির্বাচন): এই নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।


শরিফুল আলমের রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় অধ্যায় জুড়ে আছে তার কারাবাস। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কুলিয়ারচরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়।

এর কিছুদিন পর, ৪ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে তাকে ভৈরবের একটি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। হত্যা, নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় তিনি প্রায় চার মাস কাশিমপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন। অবশেষে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে তিনি জামিনে মুক্তি পান।


দলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, বারবার নির্বাচনে পরাজয় এবং দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও শরিফুল আলম জেলার রাজনীতিতে তার নিয়ন্ত্রণ হারাননি। বরং, ২০২৫ সালের জেলা সম্মেলনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়কে তার রাজনৈতিক 'পুনরুত্থান' হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা সভাপতি—এই দ্বৈত দায়িত্বে থেকে তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জ বিএনপিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকেই আসন্ন নির্বাচনে তার প্রধান শক্তি হিসেবে দেখছেন অনুসারীরা।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : রোমান মিয়া

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশা’র উদ্যোগে দুই মৃত সদস্যের ৩২ লক্ষাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশা’র উদ্যোগে দুই মৃত সদস্যের ৩২ লক্ষাধিক