ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১ মণ ধানে মিলছে না ১ জন শ্রমিকের মজুরি দিশেহারা কৃষক।
আরিফ আহম্মেদ হালুয়াঘাট সংবাদদাতা
বর্তমানে দেশের বোরো মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হালুয়াঘাটের প্রান্তিক কৃষকরা। একদিকে ডিজেল ও সারের আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে ধান কাটা শ্রমিকের চড়া মজুরি—সব মিলিয়ে ধান চাষ এখন কৃষকের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা বলছেন,১ মণ কাঁচা ধান বিক্রি করে ১ জন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ও খাবারের খরচ মেটানোও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শ্রমিকের মজুরি বনাম ধানের দাম
মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে একজন ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এলাকাভেদে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকাপর্যন্ত পৌঁছেছে। এর সাথে যুক্ত হয় শ্রমিকের তিন বেলার খাবারের খরচ। অথচ বাজারে বর্তমানে ১ মণ কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। অর্থাৎ, এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের একদিনের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
যান্ত্রিকীকরণে বাধা ও আবহাওয়া।
শ্রমিক সংকটের এই সময়ে 'কম্বাইন হারভেস্টার' মেশিন কৃষকদের বড় ভরসা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না। সময়মতো হারভেস্টার মেশিন না পাওয়া এবং ভাড়ার আধিক্য কৃষকদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, ফলে ভারী মেশিন জমিতে নামানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে চড়া দামে শ্রমিক দিয়েই ধান কাটাতে হচ্ছে কৃষকদের।
উৎপাদন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ধান চাষের প্রধান উপকরণগুলোর দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে
বাজারের এই অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ধান সংগ্রহ এবং যান্ত্রিকীকরণে আরও সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় আগামীতে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরিফ আহমেদ