ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 25, 2026 ইং
কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ছবির ক্যাপশন: কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ad728
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের বুধুন্ডা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা ও দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ বাইজিদ মুন্সি। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তারা বুধুন্ডা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। তার পিতা মরহুম বজলুর রহমান বগু মুন্সি ৩নং বিতারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এলাকায় সুপরিচিত ব্যক্তি। বাইজিদ মুন্সির অভিযোগ, ছন্দু মুন্সি গং—বিশেষ করে তার পুত্র ইকরাম মুন্সি ও রায়হান মুন্সি—দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি চালিয়ে আসছে। 

এর মধ্যে রয়েছে জমি দখলের চেষ্টা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নিয়মিত হুমকি-ধমকি। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রায়হান মুন্সি এলাকায় মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই চাঁদপুর জেলা পুলিশের হাতে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে আবার একই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

বুধুন্ডা ২৭ নং মৌজার সাবেক খতিয়ান ২৭৪,৩২৪ নং যা বর্তমানে ২০১৭ এর অন্তর্ভুক্ত ৮ শতাংশ এবং ২৯৭৬ খতিয়ানে ১০৩০৫,১০৩০৬ দাগে ৬৩ শতাংশ মোট প্রায় ৭১ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ উল্লেখ করে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রায়হান মুন্সির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরি এবং এ সংক্রান্ত মামলায় কারাভোগের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাইজিদ মুন্সি ও তুহিন মুন্সির ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগও করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পরও শারীরিক ও মানসিকভাবে ভুগছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলার পরও অভিযুক্তরা ক্ষান্ত হয়নি; বরং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সম্পত্তিতে আগুন দেয়ার ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ইকরাম মুন্সির বিরুদ্ধে অতীতে একটি শিশু হত্যার অভিযোগও তুলে ধরা হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার এখনো ন্যায়বিচার পায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। 

এছাড়া প্রতিবেশীদের ওপর হামলা, লুটপাট, মাছের খাদ্য চুরি এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মতো একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি জানায়, তাদের দখলকৃত জমি ফিরিয়ে দেওয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মধ্য থেকে মোঃ মানিক বকাউল বলেন,অভিযুক্ত ছন্দু মুন্সি গং খুবই ভয়ানক।

তাদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত। এছাড়াও এক নারী অভিযোগ করেন ২০১০ সালে তার ৪ বছরের পুত্র সন্তানকে পানিতে ছুবিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ও নাম বলতে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন তারা এলাকার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছে, সেজন্য আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই বলে তারা অাকুতি প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’