লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিলু মুন্সী (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত নিলু মুন্সী মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিবাদমান উভয় গ্রুপই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কমলাপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেন মুন্সী গ্রুপ ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন প্রথমে আনোয়ার মুন্সীর ছেলেরা স্থানীয় হাসপাতাল গেট এলাকায় নূর ইসলামকে আক্রমণ করলে তিনি আহত হন। এর জেরে নূর ইসলামের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আনোয়ার মুন্সীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে নিলু মুন্সী (৫০), তার স্ত্রী রূপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সী (৫২) এবং দুলাল মুন্সীর (৪০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলু মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের নূর ইসলাম (৩৩) মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। এলাকায় এখন থমথমে ভাব বিরাজ করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত