কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কুকুরের মাংস প্রস্তুত করে বিক্রির চেষ্টার মতো হীন ও জঘন্য ঘটনার তিন দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত রানা (২৫) এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। জনবহুল এলাকায় এমন অমানবিক ও বীভৎস ঘটনার পরও অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে একটি নির্জন স্থানে কুকুরের চামড়া ছাড়িয়ে মাংস প্রস্তুত করার সময় স্থানীয়রা রানাকে হাতেনাতে দেখে ফেলেন। অভিযুক্ত রানা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ক্ষেমিরদিয়াড় বিলপাড়া এলাকার সিরাজুলের ছেলে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ফেলে যাওয়া আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও রানা গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, রানার সাথে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে, যারা দীর্ঘদিন ধরে হোটেল বা বিভিন্ন স্থানে এমন মাংস সরবরাহ করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে এই ‘কুকুর কাণ্ড’ নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ এখন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন এবং দ্রুত এই চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলার দাবি জানাচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা অবিলম্বে রানাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তার সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র রানা নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে যদি কোনো ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকে, তবে তাদেরও শনাক্ত করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত