বাজেটের অভাবে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এবার ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে করে ঈদকে
সামনে রেখে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মোট ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি
বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ রয়েছে। এসব কর্মচারীরা একটি
নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে মাসিক ভাতা, উৎসব ভাতা ও বোনাস পেয়ে থাকেন।
তবে
চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা মাসিক ভাতা পেলেও এখন পর্যন্ত
ঈদ বোনাস পাননি।
বোনাস না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার
সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে বেশিরভাগ সময়ই তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
পরে জানা যায়, তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
আলিপুর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. ফিরোজ আলম বলেন, “আমরা
মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মাসিক ভাতা পেয়েছি। সরকারি-বেসরকারি অনেক
শিক্ষক-কর্মচারী ইতোমধ্যে বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু আমরা বারবার শিক্ষা অফিসে
গিয়েও কাউকে পাইনি।
পরে শিক্ষা কর্মকর্তা ফোনে জানান, কোনো উপজেলায় এখনো
বোনাস দেওয়া হয়নি। তিনি এসে নির্দিষ্ট তারিখে বোনাস দেওয়ার কথা বলেছেন।
বোনাস না পেলে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
রমানাথসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. বেল্লাল হোসেন বলেন,
“প্রতিবছরই আমাদের ঈদ বা কোরবানির বোনাস নিয়ে সমস্যা হয়। এ বছরও বোনাস না
পাওয়ায় কয়েকবার অফিসে গিয়েও কোনো সঠিক তথ্য পাইনি। পরে প্রাথমিক শিক্ষক
সমিতির সভাপতিকে বিষয়টি জানাই।
এখন বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে পরিবারের জন্য
ঈদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে।”
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাফর হোসেন বলেন, “গত ১৬ মার্চ সকালে
কয়েকজন কর্মচারী বোনাস না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে জানান। আমি উপজেলা শিক্ষা
কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বাজেট না আসায় বোনাস দেওয়া সম্ভব
হয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.হিটলারুজ্জামান বলেন, “বাজেট না থাকায়
এখনো বোনাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য কোনো উপজেলায় বোনাস দেওয়া হয়েছে কিনা সে
বিষয়ে আমার জানা নেই।”
ঈদকে সামনে রেখে বোনাস না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ
করছে। দ্রুত বাজেট বরাদ্দ দিয়ে বোনাস প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোঃ জিহাদ হোসেন