ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি কিশোর অপরাধী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শাওন তার রুমমেট মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে ঘুরতে গেলে কিশোর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। রিয়াদ কোনোমতে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনায় শাওনের মা নাহিদা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নদে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে।
নিখোঁজের দুই দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের চরে শাওনের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ছিনতাইকারীদের তাড়া খেয়ে প্রাণে বাঁচতে গিয়ে নদের পানিতে ডুবে শাওনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযানে নামে।
পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা, ঈশ্বরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত দেবরাজ বিন, হৃদয় বিন, রাজ বিন, বিশাল বিন, বিশাল বিন (১৫) ও বিপুল বিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সবাই কোতোয়ালী থানার চর জেলখানা বিনপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তারা ওই এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। মামলায় মোট সাতজনের নাম উল্লেখ থাকলেও একজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ময়মনসিংহ নগরজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত