ঢাকা | বঙ্গাব্দ

খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: উঠতি বয়সীদের দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: উঠতি বয়সীদের দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: খুলনায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: উঠতি বয়সীদের দিয়ে অবৈধ সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ
ad728

স্টাফ রিপোর্টার


খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তামাকবিরোধী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো-এর ‘লাক ইস’ ব্র্যান্ডের অবৈধ প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর লাল্টু নামের এক ব্যক্তির দিকে, যাকে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তিনি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন সিগারেটের ব্র্যান্ডিং করার জন্য। কোম্পানির দেওয়া মোবাইল ট্যাব ব্যবহার করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও তথ্যের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করানো হচ্ছে, যা সরাসরি দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। সম্প্রতি নগরীর শিববাড়ি মোড় এলাকার ‘রিলাক্স ক্যাফিন’ নামক একটি রুফটপ কফি শপে সুপারভাইজার ইউনুস আলীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ জন কর্মীকে নিয়ে গোপন সেমিনারের মাধ্যমে প্রচারণার পরিকল্পনা করার তথ্য পাওয়া গেছে।


বাংলাদেশের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ এবং এর ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও স্পনসরশিপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া সম্প্রতি জারিকৃত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এ বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তামাক পণ্যের ব্র্যান্ড নাম, লোগো বা কোনো বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ খুলনা শহরে প্রকাশ্যেই কর্মীদের লোগো সম্বলিত জার্সি ও মানিব্যাগ দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে তামাকের প্রতি প্রলুব্ধ করার এই বিপণন কৌশল জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।


এই অবৈধ কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে তাদের অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ইতিপূর্বে প্রশাসন এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জরিমানার পরও তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেনি। জনস্বাস্থ্যকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের চোরাগোপ্তা প্রচারণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিরুদ্ধে একটি নীরব আক্রমণ। তরুণ সমাজকে আসক্তির ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এবং তামাক কোম্পানির এই আইন অমান্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কাম্য।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইতিহাসের গলা টিপে ধরা! পেতার বাড়ি ব্রিজের জায়গায় কংক্রিটের ক

ইতিহাসের গলা টিপে ধরা! পেতার বাড়ি ব্রিজের জায়গায় কংক্রিটের ক