ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দশমিনায় তেঁতুলিয়া ও বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীতে ‘চাপিলা’র নামে ইলিশ ছানা নিধনের মহোৎসব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
দশমিনায় তেঁতুলিয়া ও বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীতে ‘চাপিলা’র নামে ইলিশ ছানা নিধনের মহোৎসব ছবির ক্যাপশন:
ad728
মো. জিহাদ হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া ও বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে ধরা হচ্ছে ছোট আকারের ‘চাপিলা’ নামে পরিচিত ইলিশের ছানা। সম্প্রতি বিভিন্ন মৎস্যঘাট ও বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট আকারের এসব মাছ প্রকাশ্যেই বেচাকেনা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দশমিনার কেদিরহাট, হাজিরহাট, গোলখালী স্লুইস বাজার, আউলিয়া পুরসহ বিভিন্ন মৎস্যঘাট থেকে এসব ছোট মাছ সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দশমিনা সদরের মৎস্য আড়ত ও মাছ বাজারেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই মাছ। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চাই জাল ও সূক্ষ্ম ফাঁসের বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহার করে এসব ইলিশের ছানা ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে কারেন্ট জাল ও মশারি জাল দিয়ে নির্বিচারে ছোট মাছ আহরণ করা হচ্ছে, যা মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তেঁতুলিয়া নদীর জেলে আরিফ (৪৫) বলেন, “আমরা আগে বড় ইলিশ বেশি পেতাম, কিন্তু এখন ছোট ছোট ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। অনেক জেলে মশারি জাল ব্যবহার করছে। এতে নদীর ভবিষ্যৎ ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু অভাবের কারণে তারা এসব করছে।” বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীর জেলে মো. ফিরোজ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু অসাধু জেলে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশের ছানা ধরছে। মাঝে মাঝে অভিযান হয়, কিন্তু নিয়মিত নজরদারি না থাকায় আবার আগের মতোই চলছে। এতে প্রকৃত জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” বাজারে আসা ছোট আকারের চাপিলা মাছ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করছেন এগুলো চাপিলা মাছ; তবে সচেতন মহলের অভিযোগ, এগুলোর একটি বড় অংশ আসলে ইলিশের ছানা, যা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রকাশ্যে এসব জাল ব্যবহার করে ইলিশের ছানা ধরা হচ্ছে? প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর?

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের ছানা নির্বিচারে আহরণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি, অবৈধ জাল জব্দ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মত দেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া ও বুড়ো গৌরাঙ্গ নদীর তীরবর্তী এলাকার একাংশ জেলেরা। অন্যথায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ ইলিশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিষয়টি জানতে চাইলে দশমিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছি। কেউ ফাঁকে অবৈধভাবে জাল ফেলে ‘চাপিলা’ নামে ইলিশের ছানা ধরে বাজারজাত করলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদীতে অবৈধ মাছ শিকার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বাজারে যেসব মাছ বিক্রি হয়, সে বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসীমউদ্দীন জালাল মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি অফিসে আছি, অফিসে এসে সামনাসামনি কথা বলি।”

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্র

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে ঈদ সামগ্র