কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নে পাকা ধানক্ষেতের মাঝখানে চলছে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ। একপাশে কৃষকের বহু প্রতীক্ষিত সোনালী ফসল পাকার অপেক্ষায়, আর অন্যপাশে সেই জমির অনেকটা অংশ জুড়ে চলছে খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম। এই দুই বিপরীত চিত্র স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
ক্ষেতের মাঝখানে খোঁড়াখুঁড়ি
ছয়সূতি ইউনিয়নের যে জমিতে বর্তমানে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলছে, সেটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজমি। ছবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফসলের মধ্যবর্তী অংশে বিশাল এলাকা জুড়ে কাদা-মাটি এবং খোঁড়াখুঁড়ির দৃশ্য। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং পাইপলাইন, যার ফলে ধানক্ষেতের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকদের মাথায় হাত
ফসল ক্ষতির আশঙ্কা: এখন চলছে আমন ধান কাটার মৌসুম। মাঠ ভরা পাকা ধান নিয়ে কৃষকদের ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক এই সময়ে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু হওয়ায় ধান কাটার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো— যে পরিমাণ জমি খননকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যন্ত্রপাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেই ফসলের ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে?
জীবিকার উপর প্রভাব: কৃষকদের অনেকেরই জীবিকা এই ফসলের উপর নির্ভরশীল। পাকা ধান জমিতে থাকা অবস্থায় কাজ শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অনিশ্চয়তা: অনুসন্ধান কার্যক্রমের ফলে যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে স্থায়ীভাবে সেই জমি আর চাষের উপযোগী থাকবে কিনা, সেই ভয়ও কাজ করছে।
সময় নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকরা এই কাজের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যখন ফসল পেকে গেছে এবং তা ঘরে তোলার সময় হয়েছে, তখন কেন এই অনুসন্ধান কাজ শুরু করতে হলো? কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ফসল কাটার পর অথবা জমিতে ফসল না থাকা অবস্থায় এই কাজ শুরু করা। এর ফলে, একদিকে যেমন জাতীয় স্বার্থে গ্যাস অনুসন্ধান হতো, তেমনি অন্যদিকে কৃষকের ফসলও রক্ষা পেত।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
জনসাধারণের দাবি, গ্যাস অনুসন্ধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
ক্ষতিপূরণ: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির জন্য দ্রুত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বচ্ছতা: গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় কৃষকদের কাছে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে তাদের মধ্যেকার অনিশ্চয়তা দূর হয়।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী সংস্থার বক্তব্য জানতে চাইলে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কৃষকের ন্যায্য দাবি ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে— এটাই ছয়সূতি ইউনিয়নের জনগণের প্রত্যাশা।
মোঃ ভেলু মিয়া