মোঃ জিহাদ হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে একাধিকবার যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত নানা লালু শাহ (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় র্যাব ও পুলিশের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে টানা এক সপ্তাহ ধরে ওই শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। গত ২ মার্চ ভুক্তভোগী শিশুকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের নারী ও শিশু ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম জানিয়েছেন, শিশুর শারীরিক পরীক্ষায় জটিলতা পাওয়ায় তাকে জেলা সদরে রেফার করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত লালু শাহ সম্পর্কের দিক থেকে শিশুটির নানা (মায়ের চাচা) হন। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুকে চকলেট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময় ১০ টাকা দিয়ে একটি খালি বাসায় নিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন। সবশেষ গত সোমবার ওই শিশুকে পুনরায় ধর্ষণ করা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লালু শাহ প্রভাবশালী মহলের দোহাই দিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। শিশুর মা ও নানি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের সাথে যুক্ত হওয়ার দাবি করছিলেন। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত লালু শাহ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ঢাকার একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত