হবিগঞ্জে পরিবেশ দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর অবস্থানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। দীর্ঘদিনের পেশা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছেন এসব প্রান্তিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই ইটভাটা কেন্দ্রিক। ভোরের আলো ফোটার আগেই এসব ভাটায় কাজে নামেন হাজারো শ্রমিক। কাঁচা মাটি বহন, ইট সাজানো ও পোড়ানোর মতো হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের ৬-৭ সদস্যের একেকটি বড় সংসার। কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অনেক ভাটা বন্ধ ও চিমনি ভেঙে দেওয়ায় থমকে গেছে এসব শ্রমিকের কর্মব্যস্ততা।
কয়েকজন শ্রমিক জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে তাঁরা এই পেশায় জড়িত। ইটভাটার কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ তাঁদের জানা নেই। হঠাত কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটানোর উপক্রম হয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা এখন অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখছেন।
পরিবেশবিদরা প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এই বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায় সামাজিক অস্থিরতা ও বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিটন চন্দ্র দে জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং মাটির টক্সিন বা উর্বরতা রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের প্রত্যাবাসন বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। তবে ভবিষ্যতে সরকারের কোনো নির্দেশনা আসলে আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
পরিবেশ রক্ষা যেমন সময়ের দাবি, তেমনি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার নিশ্চয়তাও একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত