ঢাকা | বঙ্গাব্দ

১১ দলীয় জোট ৪৭ আসনে প্রার্থী দেয়নি যে কারণে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
১১ দলীয় জোট ৪৭ আসনে প্রার্থী দেয়নি যে কারণে ছবির ক্যাপশন: সংগ্রহীত
ad728
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন দল ও জোটগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করার ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জোটের আওতাভুক্ত ৪৭টি আসনে এখনও প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এই ৪৭টি আসন মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত থাকলেও দলটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসায় জোটের প্রার্থী তালিকায় শূন্যতা রয়ে গেছে।

জোট সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক ১৭৯টি আসনে, জাতীয় কনসারভেটিভ পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসনে, খেলাফতে মজলিস ১০টি আসনে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি আসনে, এবি পার্টি ৩টি আসনে, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে এই তালিকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রার্থী এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

জোটের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকার বিষয়ে নীতিগতভাবে আগ্রহী হলেও আসন বণ্টন, প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দলটির ভেতরে এখনও আলোচনা চলমান রয়েছে। দলটি চায়, জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা যেন নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। এই কারণেই তারা সময় নিচ্ছে এবং তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরাবরই নির্বাচনী জোটের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে থাকে। তারা শুধুমাত্র আসনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লাভ, আদর্শগত সামঞ্জস্য এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে চায়। ফলে ৪৭টি আসনে প্রার্থী না দিয়ে তারা কার্যত জোটের সঙ্গে আরও শক্ত আলোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

জোটের অভ্যন্তরে আলোচনায় থাকা আরেকটি বিষয় হলো— এই ৪৭টি আসনে ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত প্রার্থী না দিলে সেগুলো কীভাবে পুনর্বণ্টন করা হবে। কোনো কোনো শরিক দল মনে করছে, ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়া এগোনো হলে এই আসনগুলো জামায়াত কিংবা অন্যান্য ছোট শরিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। তবে জোট নেতৃত্ব এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে, বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে আগ্রহী ভোটারদের মধ্যে। তারা যদি ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং জোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে, তাহলে ১১ দলীয় জোটের সামগ্রিক ভোটশক্তি আরও বাড়তে পারে। বিপরীতে, তারা যদি আলাদা অবস্থান নেয় কিংবা সীমিত সংখ্যক আসনে অংশ নেয়, তাহলে কিছু এলাকায় ভোট বিভাজনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এদিকে জোটের নেতারা প্রকাশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলছেন, আলোচনার মাধ্যমেই এই জট খুলবে এবং খুব শিগগিরই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তাদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সমঝোতার চাপ তত বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ১১ দলীয় জোটের ৪৭টি আসনে প্রার্থী না থাকা শুধু একটি সাংগঠনিক ইস্যু নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জোট রাজনীতির বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরে। আসন বণ্টন, আদর্শগত সমন্বয় এবং ভোটের অঙ্ক— এই তিনের সমন্বয়েই শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত

ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত