বাড়িঘর লুণ্ঠন, প্রাণনাশের হুমকি—চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার
সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া গ্রামে জুলাই যুদ্ধের আহত এক যোদ্ধা আমির খানের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং বাড়িঘর লুণ্ঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছে।
সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া গ্রামে জুলাই যুদ্ধের আহত এক যোদ্ধা আমির খানের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং বাড়িঘর লুণ্ঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আহত জুলাই যোদ্ধা আমির খান (পিতা: মৃত সেমেদ মিয়া) দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। তার এই প্রতিবাদের জের ধরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হানিফ মিয়া (মেম্বার)কে প্রধান অভিযুক্ত করে কামরুল ইসলাম মান্টু, আমজাত হোসেন, বাবুল মিয়া, তৌহিদ মিয়া, রাসেল মিয়া, শাহ আলম মিয়া, ইয়াসিন মিয়া, মাসুম মিয়া, মহসিন মিয়া, শাহিন ভূঁইয়া, মো. মাসুমসহ আরও অন্তত ২০-২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জন ব্যক্তি হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আমির খান অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের অনেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা, ইয়াবা পাচার, স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসা। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার তাদের রোষানলে পড়েন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা একাধিকবার প্রকাশ্যে সভা করে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি এক থেকে দেড়শ লোক জড়ো করে প্রকাশ্যে তাদের হত্যার ঘোষণা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর ধারাবাহিকভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে পরিবারটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আমির খান প্রথমে বিজয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলা দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলার অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসে পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে।
ভুক্তভোগী আমির খান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত