মোঃ রাশেদুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আজ শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। এই রেশনিং ব্যবস্থার ফলে উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। অনেক যানবাহন তেলের অভাবে রাস্তায় নামতে না পারায় স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পগুলোর সামনে ‘তেল নেই’ সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলছে। তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মারুফ হাসান মুন্না জানান, কয়েক দিন ধরেই পাম্পে সংকট চলছে, ফলে জরুরি প্রয়োজনেও যাতায়াত করা যাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সংকট নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ঋষিকেশ ও স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসানের অভিযোগ, পাম্প মালিকরা দাম বাড়ার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তাদের দাবি, ডিপোতে তেল থাকলেও সুযোগ বুঝে অধিক মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুস সালামও মনে করেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ বন্ধ থাকার অজুহাত দিলেও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত