মতবিনিময় সভায় গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনিচুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসু, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবলা চক্রবর্তী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, ইউপি চেয়ারম্যান জাফর হোসেন কালু, এস এম হাবিবুর রহমান, কামরুল ইসলাম বাবুল, ধলু মিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোট প্রদান শেষে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। অনেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক এবং অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক ভালো। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে মাত্র কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেউ কোনো অনিয়ম বা অপরাধ দেখলে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবেন।”
তিনি আরও জানান, গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিগুণ পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। ভোটের দিন ও তার আগে-পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পুলিশ সুপার বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, ভোট প্রদান করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং এই অধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের বাধা বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে গোপালগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
লুৎফর শিকদার