টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবায় বিপন্ন হচ্ছে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ। বিশেষ করে বাবনাপাড়া মসজিদ কমপ্লেক্স দাখিল মাদ্রাসা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকসেবীদের আসর বসায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পর থেকেই মাদ্রাসার নির্জন স্থানগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মাদকসেবীদের এমন বেপরোয়া কার্যকলাপে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। মাদ্রাসার ভেতরে মাদক সেবনের ফলে সেখানে নেশাদ্রব্যের অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়, যা কোমলমতি শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাথে বাবনাপাড়া খাল সংলগ্ন এলাকা এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির সভাপতি শিব শংকর সূত্রধরের বাড়ির পাশের ফাঁকা স্থানেও নিয়মিত নেশার আড্ডা বসে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বসতবাড়ির এত কাছে মাদকসেবীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বাবনাপাড়া মসজিদ কমপ্লেক্স দাখিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিজ উদ্দিন মিয়া মুঠোফোনে জানান, "আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন এবং আমরা সেই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। খালের পাশে ও ফাঁকা বাড়িতে নেশার আড্ডা এখন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে, যার ফলে আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমি এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম, আবারো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।"
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন এ বিষয়ে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান সবসময়ই চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমরা নির্দিষ্ট ওই এলাকাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। মাদ্রাসার পবিত্রতা নষ্ট করা বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদকের আড্ডা জমানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই এসব স্পটে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।" এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই বাবনাপাড়ার এই মাদক স্পটগুলো নির্মূল করে এলাকায় শিক্ষার সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত