দশমিনা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে
উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের
বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সংবাদ
সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার সকাল ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. জহিরুল ইসলাম সবুজ
জানান, তার বাবা আলী আকবর খান এবং একই বাড়ির জাকির খানের মধ্যে দীর্ঘদিন
ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ৩৩ ফুট জমির মধ্যে ২০ ফুট অংশ আলী
আকবর খানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং পূর্ববর্তী সালিশের রায়েও তা উল্লেখ
রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির খান জমিটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতার কাছ থেকে
বায়না গ্রহণ করেন এবং সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।
এতে আলী আকবর খান বাধা
দিলে বিষয়টি সালিশে গড়ায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট আলী আকবর খান
পটুয়াখালী দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং আদালত থেকে জাকির খানের
কাছে নোটিশ পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলা চলাকালীন সময়ে জাকির খান প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে
বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আলী আকবর খানকে থানায়
ডেকে নিয়ে তাকে ও তার ভাইকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয় এবং পরে তাদের
বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেন জহিরুল
ইসলাম সবুজ। পরবর্তীতে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা জেলে থাকাকালীন প্রতিপক্ষ দিন-রাত কাজ করে
বিরোধপূর্ণ জমিতে অবৈধভাবে প্রাচীর নির্মাণ করে।”
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আলী
আকবর খান পুনরায় আইনের আশ্রয় নেন এবং উক্ত সম্পত্তির ওপর পটুয়াখালী জেলা
জজ আদালত নিষেধাজ্ঞা (স্টে অর্ডার) জারি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলী আকবর খান বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও
জাকির খান সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি একাধিকবার থানায় গেলে আমাকে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। সেই সুযোগে তারা জমিতে কাজ করে। সম্প্রতি
আদালতের স্টে অর্ডার থানায় জমা দেওয়ার পর পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করলেও পরে
তারা গোপনে আবার কাজ শুরু করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি মামলা করার পরামর্শ দেন।
এর আগেও তিনি আমাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন।” এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং
সংশ্লিষ্ট ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ
কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জাকির খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার নিজস্ব
জমিতে কাজ করছি। আকবর খান আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। আমি
আদালত বা থানার পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের কোনো নোটিশ পাইনি।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন
পারভেজ বলেন, “ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
আকবর আলী খান জায়গার
আকার-আকৃতি পরিবর্তন না করার জন্য একটি স্টে অর্ডার এনেছেন। আমরা একাধিকবার
পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করেছি। তবে মাঝে মাঝে গোপনে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া
যাচ্ছে। কেউ আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “থানা পুলিশের সহযোগিতায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কাজ
চালানো হচ্ছে,এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।
মোঃ জিহাদ হোসেন