খুলনার আড়ংঘাটা ৫ নম্বর ইউনিয়নে পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ এখন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মামলার বিবাদী মিরা বেগম ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী জোসনা আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে বিতর্কিত জমিতে নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী জিন্নাত শেখসহ অপর তিন ভাই-বোন জানান, পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তারা আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মানবিক বিবেচনায় মিরা বেগমকে তাঁর বিদ্যমান বসতঘর সংস্কারের অনুমতি দিলেও আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল— কোনোভাবেই নতুন কোনো সম্প্রসারণ বা পুনর্নির্মাণ করা যাবে না।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আড়ংঘাটা ৫ নম্বর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জোসনা আহমেদের প্রভাব ও শক্তির জোরে ওই জমিতে নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। বাদীপক্ষ এ বিষয়ে একাধিকবার আড়ংঘাটা থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেছেন।
বাদীদের ভাষ্যমতে, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টো তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে 'পারিবারিক' বলে মন্তব্য করেন। তবে আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী জোসনা আহমেদ ও মিরা বেগম উদ্ধত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের জায়গায় আমরা ঘর নির্মাণ করছি। আমরা কোনো আদেশ মানি না। এটা আমাদের জায়গা, এখানে কাউকে আসতে দেব না।”
এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের মতে, জোসনা আহমেদের বিরুদ্ধে অতীতেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আপন ভাইকে রক্তাক্ত করাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দৌলতপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার প্রচেষ্টায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ৫ আগস্টের পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পেলেও বর্তমানে এলাকায় গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর মতে, আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে এমন নির্মাণকাজ আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।