পটুয়াখালীর বাউফলে রাতের আঁধারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর হিজবুল্লাহ্ বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও তারা পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাত ৯টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি গিয়েছিলাম। মানুষের চিৎকারে ঘুম ভেঙে দৌড়ে বাজারে এসে দেখি আমার সব শেষ। ১০টি দোকানের মধ্যে আমারই দুটি ছিল। সেখানে বিকাশ ও নগদের টাকা ছাড়াও জুতা ও মনোহরি মালামাল ছিল। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসাটি দাঁড়িয়ে করেছিলাম, এখন আমি পথে বসে গেছি।” তাঁর একারই প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্য এক ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে মুদি ও চায়ের দোকান করছিলেন। ৩-৪ লাখ টাকার মালামাল হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। এছাড়াও আগুনে ইমন আকনের চালের গোডাউন, সাহেব আলী ফকিরের কৃষি যন্ত্রপাতির দোকান এবং ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়টিও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
মার্কেটের মালিক অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মনসুর আহমেদ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “পেনশনের টাকায় এই মার্কেটটি করেছিলাম যেন শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারি। কিন্তু আগুনের গ্রাসে আমার শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেল।”
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সালেহ আহমেদ জানান, “ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী নগদ অর্থ ও ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তাও পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে।”