ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনসমূহ। আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি নিট কম্পোজিট কারখানায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগ তুলে গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি নিয়ে শ্রমিক নেতারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৪ দফা দাবি:
১. দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার সম্পন্ন করা।
২. নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৩. পরিবারের সদস্যদের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দীপু দাসের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সুরক্ষা বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। উপরন্তু, অভিযুক্তদের অনেকে এখনো অধরা রয়েছে। শ্রমিক নেতারা বলেন, একটি পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক উসকানির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষ বা প্রভাবশালীদের ইন্ধন আছে কিনা, তা গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোশরেফা মিশু (সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন), শবনম হাফিজ (সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন), সাদেকুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র), ডা. হারুন-অর-রশীদ (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ), শামীম ইমাম (সমন্বয়ক, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন), সুশান্ত সিনহা (সদস্য সচিব, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন), নাসিরউদ্দিন নামু (সমন্বয়ক, গণমুক্তি ইউনিয়ন), অমল ত্রিপুরা ও নরেশ ত্রিপুরা (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ), শেখ বাহার মজুমদার (সভাপতি, সিপিবি ময়মনসিংহ), অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ (সভাপতি, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ) এবং বাবলিয়া আখন্ড (কোষাধ্যক্ষ, ওএসকে ফেডারেশন) সহ আরও অনেকে।
দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শ্রমিক সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দেন।