
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা আশুরার বিলকে ২০২১ সালে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মশিউর রহমান এবং দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য জনাব শিবলী সাদিক।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আশুরার বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়। পাশাপাশি বিলের দুই পাড়ের সংযোগ স্থাপনের জন্য সেখানে প্রায় ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি আকাবাঁকা কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পর্যটন স্পটটির নামকরণ করা হয় “শেখ রাসেল উদ্যান”।
উদ্যানটি চালু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি নবাবগঞ্জ উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আশুরার বিল ও শেখ রাসেল উদ্যান পরিদর্শনে আসতেন। এতে করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে থাকেন।
তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুঃখজনকভাবে সাধারণ জনগণের দ্বারা কাঠের ব্রিজসহ উদ্যানের বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। ফলে পর্যটন কেন্দ্রটি কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়ে এবং দর্শনার্থীদের আগমন বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, আশুরার বিল ও শেখ রাসেল উদ্যান পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন,
“এটি একসময় একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এখানে ভ্রমণে আসত এবং এতে এলাকার মানুষরাই ব্যবসা করে লাভবান হতো। তাই এটি পুনর্সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আশুরার বিল ও শেখ রাসেল উদ্যান পুনর্গঠন করা হলে আবারও এটি নবাবগঞ্জ উপজেলার পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।