
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট হলে ‘জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন নির্বাচনের দিন গণভোট হওয়ার বিষয়টি জামায়াতের আমির কীভাবে দেখছেন?
জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ভালোভাবে দেখছি না। আমরা আগেই বলেছি, নির্বাচনের দিন গণভোট হলে, নির্বাচনে জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
এদিন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে একসঙ্গে আয়োজনে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধের মধ্যে গেল ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে আয়োজনের ঘোষণা দেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ওপর। কমিশন একই দিনে বা জাতীয় নির্বাচনে আগে যে কোনো সময় গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করে।
নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দাবিতে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ. গণমিছিল করেছে।
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি নিয়ে এখন জামায়াতের অবস্থান কি, জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অবস্থান আপনাদের সামনে পরিষ্কার। আমাদের দাবি অব্যাহত। এই দাবি বাস্তবায়ন হবে, জনগণের স্বার্থে। এমনকি আমরা ক্ষমতায় গেলেও কথা দিচ্ছি, সেই পিআর আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।”
নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নাই, কিন্তু এই ‘ফিল্ড’ আমাদেরকে তৈরি করতে হবে। আমাদের মানে সবাইকে মিলে। আপনারা তৈরি থাকুন। এই নির্বাচন হতে হবে। এই নির্বাচন না হলে এদেশে সংকট দেখা দেবে। আমরা কোনো সংকট তৈরি হতে দিব না।”
নির্বাচনে জোট করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ‘কনভেনশনাল’ কোনো জোট করব না। কিন্তু অনেকগুলা দল এবং শক্তির সঙ্গে আমাদের নির্বাচনি সমঝোতা হবে।”
চট্টগ্রামে সকল আসনে জামায়াতের প্রার্থীর বিজয়ের জন্য কোনো বার্তা দেবেন কি না?
জবাবে তিনি বলেন, “সকল আসনে জামায়াতের বিজয়ের কোনো বার্তা দিব না। আমি জনগণের বিজয়ের বার্তা দিয়েছি। আমি জামায়াতের বিজয় চাচ্ছি না, জনগণের বিজয় চাচ্ছি।
তার আগে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্য ইসলামের ‘গেটওয়ে’ চট্টগ্রাম। আবার মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণাটাও হয়েছে এ জায়গা থেকে। এবং এখানেই প্রথম ‘কনভেনশাল’ লড়াই শুরু হয়েছিল।
“বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের একটা বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা ৪৭, ৫২, ৭১ পার হয়ে এসেছি। এখন আমরা দাঁড়িয়েছি চব্বিশের কূলে। বারবার এ জাতির সামনে সুযোগ এসেছে। কিন্তু সুযোগের উত্তম ব্যবহার যাদের করার কথা ছিল, তারা সে ব্যবহার না করে অপব্যবহার করেছে।”
“সম্পদের একটা লীলাভূমি হচ্ছে এই চট্টগ্রাম, বিশেষভাবে বাংলাদেশের মধ্যে। কিন্তু আমরা সেই সম্পদের উপকারভোগী হতে পারলাম না, জনগণ। কিছু লোক জনগণের সম্পদকে লুণ্ঠন করে, তারা তাদের পকেটকে ভারি করেছে। তাদের কপাল-কিসমত বড় করেছে। কিন্তু জনগণ কার্যত সেরকম কোনো উন্নয়নের মুখ দেখেনি।”
জাতি সবার, কোনো বিশেষ দলের নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয় মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, “কারো কাছে আমরা আমাদের দেশের রাজনীতি ইজারা দিতে চাই না। কোনো পরিবার নয়, কোনো দল নয়। এদেশের মালিক জনগণ। আমরা জনগণের হাতে জনগণের অধিকার তুলে দিতে চাই।”
শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন। এরপর বিকালে নগরীর ফিরোজ শাহ বড় মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দস্তারবন্দি ও ইসলামি মহাসম্মেলনে যোগ দেন।
পরে সন্ধ্যায় নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে নির্বাচনে দলের দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির।