
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যৌতুকের দাবিতে নববধূকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাবরিনা বেগম রুমকি (২০) ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে র্যাব-১৪ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও ভুক্তভোগীর স্বামী রহিম মিয়াকে (৩০) ভৈরব বাজার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাবরিনা বেগম রুমকির বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর একই উপজেলার টুকচানপুর গ্রামের মো. রহিম মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের সময় রুমকির পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা) ও দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী রহিম মিয়া, তার বাবা মোস্তফা মিয়া, মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রুমকির ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
অভিযোগে রুমকি উল্লেখ করেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বামী রহিম মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা তাকে বাবার বাড়ি থেকে আরও ৫ লাখ টাকা আনতে চাপ দেয়। তিনি অস্বীকার করলে রহিম মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। পরে লাঠি, রড ও ঘুষি-লাথি মেরে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় এবং তলপেটে আঘাত পেয়ে মারাত্মক রক্তপাত হয়।
ঘটনায় রহিম মিয়ার বাবা মোস্তফা মিয়া (৫৯), মা মনোয়ারা বেগম (৫১), আত্মীয় আফরোজা বেগম (৫০), সরমিন মিয়া (২৫) ও আসিফ মিয়া (২১) অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। তারা সবাই মিলে রুমকিকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং তার স্বর্ণালংকার রেখে দেয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর র্যাব-১৪ (সিপিসি-৩) ভৈরব ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রহিম মিয়াকে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনার স্বাক্ষী হিসেবে স্থানীয় মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, রুবেল মিয়া ও শাহানা বেগমসহ প্রতিবেশীরা অবগত আছেন।
ভুক্তভোগী রুমকি বলেন, “বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে আমাকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্য তারা আমাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে। অবশেষে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
এ বিষয়ে র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার জানান, “মামলার ভিত্তিতে আসামিকে আটক করে ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”