
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক বলেন,
“যদি ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বাঁশখালীর সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও তার সহযোগী চেয়ারম্যানদের রক্ষাকারী তথাকথিত বিএনপি নেতাদের নমিনেশন দেওয়া হয়, তবে আমি সরাসরি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করব।”
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন।
বৈঠকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর এবং সাবেক পৌর মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী।
তবে আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন না।
মফিজুর রহমান আশিক বলেন,
“২০২৩ সালের ১৯ জুলাই জেল থেকে বের হয়ে আমি এইচআরডব্লিউ-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মানবাধিকার কর্মী জুলিয়া ব্লেকনারের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গুম ও গ্রেফতার বিষয়ে কাজ করি। ২৮ অক্টোবরের বিএনপি সমাবেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বাহিনীর হামলা নিয়ে এইচআরডব্লিউ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তা ছিল আমার ডকুমেন্টেশনের ওপর ভিত্তি করে। ডামি নির্বাচনের ভোট কারচুপি ও বাচ্চাদের দিয়ে ভোট দেওয়ার ভিডিও আমি ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টে কর্মরত সাংবাদিক মুশফিক ফজল আনসারীর কাছে সরবরাহ করি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি তিনবার বিসিএস ভাইভা দিয়েও চাকরি পাইনি, শুধু ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম বলে। যদি কোটাভিত্তিক মনোনয়ন হয়, আমি তা মানব না—যে কোটার কারণে আজ হাসিনা সরকারকে পালাতে হয়েছে।”
আশিক বলেন,
“আমি লোভ-লালসা ছাড়াই রাজনীতি করে আসছি। যারা বালি লুট, চাঁদাবাজি, মামলা-বাণিজ্য, এবং আওয়ামী লীগের আমলে লিয়াজোঁ করে ব্যবসা করেছে, তারাই আজ মনোনয়নপ্রত্যাশী! অথচ ২০১৮ সালে যখন ২১ আগস্ট মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়, তখন বাঁশখালীর কয়েকজন চেয়ারম্যান তার ফাঁসি দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করে। তারা আজও বহাল তবিয়তে আছেন—কিছু বিএনপি নেতার আশ্রয়ে। তাদের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি মানব না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“উত্তর বাঁশখালীর এক আওয়ামী চেয়ারম্যান এখনো বহাল তবিয়তে আছেন—তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করে না। আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা মিলে পশ্চিমের বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে লুটপাট চালাচ্ছে—এটাই দলের জন্য দুঃখজনক।”
সবশেষে আশিক বলেন,
“তারেক রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা নন; তিনি জেল-জুলুম-অপপ্রচার সহ্য করে জনগণের নেতা হয়েছেন। তিনি ত্যাগীদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবেন—এমনটা আমি বিশ্বাস করি না। আমি তরুণ প্রজন্মের যোদ্ধাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব ইনশাআল্লাহ। চট্টগ্রাম-১৬ আসনটি আমি তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।”