
ইলিয়াস আলী মাসুক, হবিগঞ্জ
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচার রোধে হবিগঞ্জ সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরাইল রিজিয়নের শ্রীমঙ্গল সেক্টরের অধীনস্থ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাজুড়ে নজরদারি দ্বিগুণ করেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে অভ্যন্তরীণ ৮ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং মোবাইল পেট্রোলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাল্লা আইসিপি (ICP) এবং এর আশপাশের দুর্গম এলাকাগুলোতে বিজিবির নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল বা পণ্য অবৈধভাবে সীমান্তের ওপারে পাচার হতে না পারে।
৫৫ বিজিবি (হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ রক্ষায় বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জাতীয় সম্পদ পাচারের চেষ্টা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাচারকারী সিন্ডিকেট ও তাদের সম্ভাব্য রুটগুলো শনাক্ত করতে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এখন ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। গভীর রাত ও ভোরবেলায় নিয়মিত ঝটিকা অভিযান ও অ্যাম্বুশ পরিচালনার মাধ্যমে পাচার কার্যক্রম নস্যাৎ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অস্বাভাবিক পরিমাণে তেল ক্রয় বা ড্রামভর্তি করে মজুত করার ওপর বিশেষ নজরদারি বসানো হয়েছে।
সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি এখন সামাজিক সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে এবং বাল্লা আইসিপি এলাকায় বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে পাচার রোধে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্তের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা চোরাচালান দমনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অবৈধ পাচার বন্ধ করতে ৫৫ বিজিবির এই কঠোর অবস্থান স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই বিশেষ অপারেশনাল কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।