প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 6, 2026 ইং
ভেড়ামারায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে। রফতানি সমৃদ্ধ দেশগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার উছিলায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। উপজেলার অধিকাংশ পাম্প, মিনি পাম্প ও জ্বালানি তেলের বড় দোকানগুলো তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও তা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করে এক ধরনের প্রতারণা শুরু করেছে। কিছু দোকানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হলেও অধিকাংশ স্থানেই ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাপনগরের আইডিয়াল পেট্রোলিয়াম ও বাহাদুরপুরের সাগর মিনি পাম্পসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখায় সাধারণ মোটরসাইকেল আরোহী ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি খাতের ওপর। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখতে না পারায় কৃষি জমি ও ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে পুঁজি করে স্থানীয় ডিলার ও পাম্প মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুত করে রাখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই যারা পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন, তারা মূলত জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। সংকটকালীন সময়ে যারা মুনাফা লাভের আশায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনেক পাম্প মালিকের নামের পাশে সমাজসেবকসহ বিভিন্ন তকমা থাকলেও দুঃসময়ে তাদের এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা এমন হীন কাজ করার সাহস পাচ্ছেন। অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই কৃত্রিম সংকট দূর করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত