মোঃ জিহাদ হোসেন, পটুয়াখালী সংবাদদাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তিনি নির্বাচনি মাঠে থাকার বিষয়ে অনড় অবস্থান জানান।
হাসান মামুন স্পষ্ট করে বলেন, ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার এই সিদ্ধান্তে আসনটিতে নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
এই আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় নুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে নুরুল হক নুর এলাকায় পরিচিতি পেলেও হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে আসছেন। নুরকে জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার মূলধারার বিএনপির বড় একটি অংশ প্রকাশ্য ও নীরবে হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নুরের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগে গত ১৭ জানুয়ারি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কমিটি বিলুপ্তির পরও স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে নুরুল হক নুর দশমিনায় এক বক্তব্যে বলেন, তিনি কাউকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না।
এ বিষয়ে হাসান মামুন বলেন,
“আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের চাপ ও প্রত্যাশার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। ভোটের দিন পর্যন্ত লড়াই চলবে। আমার বিশ্বাস, জালিম ও জুলুমকারীদের প্রত্যাখ্যান করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দশমিনা–গলাচিপা গড়তে মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।”
এই অবস্থায় পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও উত্তপ্ত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দৈনিক চ্যানেল দিগন্ত